বিশ্বের সপ্তাশ্চর্য চিচেন ইতজা

বিশ্বের সপ্তাশ্চর্য চিচেন ইতজা মে ২৭, ২০১৭ ০ comments

সরদার জাহিদুল কবীর: চিচেন ইতজা পৃথিবীর নতুন সপ্তাশ্চর্যের মধ্যে একটি। ‘চিচেন ইতজা’ স্প্যানিশ ভাষা। এটার অর্থ ইতজাদের কুয়ায় যাওয়ার মুখ। ইতজা হলো মায়া সভ্যতার সময় গুয়েতেমালার একটি জাতি। মায়া হলো মেসোঅ্যামেরিকান সভ্যতা। যা খ্রিস্টপূর্ব ২ হাজার বছর পূর্ব থেকে ২৫০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্তু গড়ে ওঠে।ok5

অংকন, স্থাপত্য, গণিত এবং জ্যোতির্বিদ্যাসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে লিখন ভাষার উদ্ভবই এ সভ্যতার মূল। ইতজা ভাষা মায়া সভ্যতার ভাষা সমূহের একটি। মূলত ইতজা ভাষা থেকেই জাতির নাম। বর্তমানে চিচেন ইতজা মেক্সিকোর যুকাতান রাজ্যের পূর্বাংশে অবস্থিত। ইতজা জাতিগোষ্ঠীরা এখন স্প্যানিশ ভাষায় কথা বলেন। ইতজা ভাষা তারা ভুলতে বসেছেন।ok4

‘চিচেন ইতজা’ প্রি-কলাম্বিয়ান যুগের একটি শহরের কেন্দ্রবিন্দু। প্রায় ১০০ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এই শহরটি ৬ষ্ঠ থেকে ৯ম শতাব্দীর মাঝে মায়া লোল্যান্ডের উত্তরে গড়ে ওঠে। ১০৫০ সালের মধ্যে এটি অতি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হিসেবে যুকাতানের আঞ্চলিক রাজধানীতে পরিণত হয়।ok6

যুকাতান উপদ্বীপের উত্তরাংশ অনেকটা শুষ্ক। এখানকার নদী-নালা মাটির বেশ নিচ দিয়ে প্রবাহিত। এখানে দুটি বৃহৎ প্রাকৃতিক কুপ বা জলাধার রয়েছে। এদের cenotes  বলে। শহরের সারা বছরের পানির উৎস ছিল এ cenotes । এ cenotes -এর মধ্যে “Cenote Sagrado” বেশ বিখ্যাত। Sacred Well বা Well of Sacrifice নামে এটি বেশি পরিচিত। যুকাতান উপদ্বীপের তিন দিকে মেক্সিকো উপসাগর থাকায় এর ভূগর্ভস্থ পানির লেবেল সব সময় একই থাকে। ফলে মায়া লোল্যান্ডে চিচেন ইতজার অর্থনৈতিক গুরুত্ব ছিল অনেক। ১৪ শতাব্দীতে এ শহরটিকে পরিত্যাক্ত ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে মায়া সভ্যতার বৃহত্তম সাইট হিসেবে এর স্থাপত্য রীতির বহুমাতৃক প্রদর্শন হতে থাকে।     ok3

১৫৫৬ সালে যুকাতান স্পেনের অধিকারে যায়। ১৮৬০ সালে Desire Charnay চিচেন ইতজা জরিপ করেন এবং Cités et ruines américaines-এ এর ছবি প্রকাশ করেন। ১৮৯৪ সালে যুকাতানের মার্কিন কনসাল এডওয়ার্ড হারবার্ট থম্পসন হাছিয়িনদা চিচেনসহ চিচেন ইতজা ক্রয় করেন। তিনি এটিকে পূরাতন শহর হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন।এটা সংস্কারের সময় অনেক মানুষের দেহাবশেষ পাওয়া যায়। যারা যোদ্ধা ছিলেন। তাঁদের স্মৃতিস্তম্ভ হিসেবে ১ হাজার কলাম তৈরি করা হয়।ok2

১৯৮৮ সালে এটি বিশ্ব ঐতিহ্যর অংশ হিসেবে গৃহীত হয়। ২০০৭ সাল থেকে আয়োজিত বিশ্ব ভোটে পৃথিবীর নতুন সপ্তাশ্চর্যের মধ্যে পঞ্চম স্থান অধিকার করে এটি। বর্তমানে বিশ্ব পর্যটকদের নিকট অতি আকর্ষণীয় স্থান এটি।

No Comments so far

Jump into a conversation

No Comments Yet!

You can be the one to start a conversation.

Your data will be safe!Your e-mail address will not be published. Also other data will not be shared with third person.